সিলেটে বিদ্যুৎ কখন আসবে কেউ জানে না: বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড: ২০০কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

১৭ নভেম্বর ২০২০ কৃষি, অর্থ ও বানিজ্য, জাতীয়, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটের উপকন্ঠ কুমারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ উপ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার গ্রিড উপ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গাওয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী (পিজিসিবি)-এর নিয়ন্ত্রনাধিন গ্রিড লাইনে আগুনের কারণে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে পুৃরো সিলেট। সকাল ১১ টা থেকে সিলেটের পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন। কখন পুণরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারননি কেউ। আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার বিষয়টি নগরবাসীকে জানাতে দুপুর ২ টা থেকে নগরীতে মাইকিং করানো হচ্ছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে দুপুরে কুমারগাও গ্রিড স্টেশন এলাকায় যান সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম।তিনি বলেন, আগুন এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এখন পর্যন্ত পুরো সিলেট জেলা বিদ্যুৎহীন আছে। পিডিবি ও পল্লীবিদ্যুতের সব গ্রাহকরাই বিদ্যুৎহীন। বিদ্যুৎ সরবরাহ কখন শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ফলে পিডিবি ও পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎহীনতার কারণটি জনগনকে জানাতে মাইকিং করানো হচ্ছে। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।তিনি বলেন, আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে বিশেষজ্ঞদের দিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। তারা অগ্নিকান্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপন করবেন।মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের কুমারগাওয়ে অবস্থিত জাতীয় গ্রিড লাইনের দুটি ট্রান্সমিটারে আগুন লেগে যায়। ফায়ার ব্রিগেডের ৫টি ইউনিট প্রায় দেড়ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হয়। আগুন নেভাতে গিয়ে জয়ন্ত কুমার নামে দমকলবাহিনীর এক সদস্য দগ্ধ হন। তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স সিলেটের উপ পরিচালক শওকত হোসেন বলেন, গ্রিড লাইনের আগুন এখন অনেকাই নিয়ন্ত্রনে। ট্রান্সমিটারের জ্বালানি তেল থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগের সিলেট কার্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে অনেক সময় লাগবে। আগুনে গ্রিড লাইন ও ট্রান্সমিটার অনেক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বেশকিছু যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। পিডিবি ও পিজিসিবি একসাথে এগুলো সংস্কারে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্থ যন্ত্রপাতি সংস্কার ও পরিবর্তন করতে হবে। তবে কতক্ষণের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে পারে তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
এদিকে গ্রিড উপ কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগুনে ৭০ কোটি টাকার ২৫/৪১ এমবিএ দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেছে। ট্রান্সফরমারগুলোর বাইরের অংশ পুড়লেও ভেতরে কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ৩৩ কেভি ফিডার ও বার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।গ্রিড উপ কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডে পুরো সিলেটে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সিলেট নগরী, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা, ছাতক ও সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎহীন রয়েছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষাধিক গ্রাহক দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ সিলেটর প্রধান প্রকৌশলী মোকাম্মেল হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, তাদের প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে প্রায় ৩ লক্ষাধিক গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। গ্রিড উপ কেন্দ্রের লোকজনও অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি বলেন, কিভাবে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তা এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এ বিষয়ে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোস্তাকিম বিল্লাহকে ফোন দিলেও তার নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ-৪ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বাংলানিউজকে বলেন, সাব স্টেশনে অনেকগুলো প্যানেল আছে। কোনোটি থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজি এমদাদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে পিজিসিবির সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন। পাশাপাশি ঢাকা থেকেও টিম সিলেটে আসছে। এছাড়া জনসাধারণ যাতে বিক্ষুব্ধ না হয়ে মাঠে নামেন, এজন্য মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে সিলেট নগরের উপকন্ঠ কুমারগাঁওয়ে ১৩২/৩৩ কেভি বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট একঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যুতের গ্রিডে ট্রান্সফরমারে আগুন লাগে। এতে করে সাব স্টেশনের আশপাশের লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দমকল বাহিনীর ৭টি ইউনিট ও বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনের প্রায় একঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন মহানগর এলাকার লোকজন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিভিন্ন বাসা-বাড়ি ও হাসপাতালে রোগীরাও পড়েছেন বিপাকে। সেসঙ্গে বিদ্যুৎ না থাকায় অফিস আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সিলেট নগরের মীরের ময়দান এলাকার সুমন আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছি। কখন বিদ্যুৎ আসবে, সে আশায় প্রহর গুনছি,বলেন তিনি। নগেরের জিন্দাবাজার এলাকার আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অফিসিয়াল কাজে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার বন্ধ। মোবাইল ফোনেরও চার্জ চলে যাচ্ছে। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট পাঠানো যাচ্ছে না।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।