কিশোরী রিনার মৃত্যুর পর বাসায় তালা দিয়ে চিকিৎসক দম্পতি ‘উড়াও’! থানায় মামলা

১৫ নভেম্বর ২০২০ মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

স্টাফ রিপোটার: সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকায় চিকিৎসক দম্পতির বাসায় কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার (১৫) মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে থানায় মামলা রেকর্ড হয়েছে। আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলাটি রেকর্ড করা হয়। আর আগে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিলো। মামলা রেকর্ডের বিষয়টি কে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) সৌমেন মিত্র।
জানা গেছে, গত ৩১অক্টোবর সিলেটের আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ডা. জামিলা খাতুনের ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় কোম্পানীগঞ্জের বাতুমারা নোয়াগাঁও গ্রামের আব্দুল মালিকের মেয়ে জান্নাত আক্তার রিনার (১৫) লাশ। গলায় ছিলো আঘাতের চিহ্ন। রিনার পরিবারের অভিযোগ- নির্যাতনের পর হত্যা। আর ডা. জামিলা খাতুনের দাবি- আত্মহত্যা করেছে রিনা। এ মৃত্যুর ঘটনায় ৩ নভেম্বর আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন নিহত রিনার পিতা আব্দুল মালিক। অভিযোগটি কোতোয়ালি থানার ওসিকে ৩ দিনের মধ্যে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আদেশ দেন সিলেট অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের (ভারপ্রাপ্ত) বিচারক জিয়াদুর রহমান। মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করেছেন আব্দুল মালিক। অভিযুক্তরা হচ্ছেন- সিলেট উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়েছ আহমদ চৌধুরী, তার স্ত্রী জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জামিলা খাতুন, তাদের ছেলে তাহসান, মেয়ে তাসকিয়া বেগম ও গোয়াইনঘাটের আঙ্গারজুর লামাপাড়া গ্রামের হাসনা বেগম। এছাড়াও মামলায় ১১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। রিনার পিতা আব্দুল মালিক এর অভিযোগ,অভাবের সংসার হওয়ায় বাসায় টুকটাক কাজ করার পাশাপাশি পড়ালেখা করানোর শর্ত দিয়ে ডা. ওয়েছ ও ডা. জামিলা খাতুনের বাসায় পাঠান রিনাকে। কিন্তু ডা. জামিলার পরিবারের সদস্যরা রিনাকে নানাভাবে অত্যাচার করতো। কাজে সামান্য ভুল হলেই রিনাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে অত্যাচার করতো সবাই।
এছাড়াও শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার পাশাপাশি কিশোরী জান্নাত আক্তার রিনার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিতেন চিকিৎসক দম্পতির ছেলে তাহসান। রিনার প্রতি তার কুদৃষ্টি ছিলো।
প্রায় সময় রিনা তার ওপর চলা এসব নির্যাতনের কথা জানালেও বাবা অভাবগ্রস্ত হওয়ায় মেয়েকে বুঝিয়ে আবারও ডা. জামিলার বাসায় পাঠাতেন।গত ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আসামি হাসনা বেগম রিনার ভাই আল আমিনের মোবাইলে ফোন করে জানান, তার বোন আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর বাসা গিয়ে স্বজনরা দেখেন- রিনার লাশ সিঁড়ির নিচে পড়ে আছে। আব্দুল মালিক আরও বলেন, ডা. জামিলার ছেলে তাহসানের কুদৃষ্টি ছিলো রিনার প্রতি। মামলার ১১ নম্বর সাক্ষী শিরিনা বেগম আব্দুল মালিককে জানিয়েছেন, রিনা জীবিত অবস্থায় তাহসান তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে প্রায়ই নির্যাতন করতো। এদিকে, রিনার পিতা আদালতে অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বাসায় তালা দিয়ে পালিয়েছেন। পুলিশ তাদের খুঁজে পাচ্ছে না।এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিলেট কোতোয়ালি থানার এস.আই আতিকুর রহমান জানান,মামলাটি ৩০২ ও ৩৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এখনও আমাদের হাতে এসে পৌঁছেনি। ভিছেরা রিপোর্ট সংযুক্ত হয়ে রিপোর্টটি আসবে। তিনি জানান, মামলা রেকর্ডের পর থেকে অভিযুক্তদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বাসায় তালা দেয়া। তদন্ত চলছে। আসামিরা দোষী প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।মামলা ও বাসায় না থাকার বিষয়ে জানতে ডা. জামিলার মোবাইল ফোনে কল দিলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। উল্লেখ্য, ডা. জামিলার ফোনের ভিত্তিতে গত ৩১ অক্টোবর দুপুর ১টার দিকে আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার ৪ নং গলির ৪৩ নং (ডা. জামিলার) বাসা থেকে পুলিশ রিনার লাশ উদ্ধার করে। ওইদিনই ময়না তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় রিনার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। পরে রাত সাড়ে ১০টায় সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বতুমারা (নোওয়াগাও) গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে রিনার মরদেহ দাফন করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের “আপনার প্রিয় শেয়ার বাটনটিতে ক্লিক করুন”
শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।