হাতের চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগীর ঘাড় মটকে দিলেন ডাক্তার

৫ নভেম্বর ২০১৯ জাতীয়, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ বার পঠিত হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা ইউনিয়নে হাতের ব্যথার চিকিৎসা নিতে আসা এক নারীর ঘাড় মটকে দিলেন চিকিৎসক। এতে ঘাড় ও গলায় প্রচুর আঘাত পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আছেন আফরোজা বেগম (৫০) নামের ওই নারী।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দুপুরে পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পাটগ্রাম থানা পুলিশের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন আফরোজা। ভুক্তভোগী আফরোজা উপজেলার বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের ৫নং ওয়ার্ডের মৃত এন্তাজ উদ্দিনের মেয়ে।

আফরোজা বেগম বলেন, হাত ব্যথার চিকিৎসা নিতে পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা বাজারের চিকিৎসক আবু সাঈদের কাছে গেলে চিকিৎসা দেন। পাশাপাশি রংপুর পাগলা পীরের এক চিকিৎসকের কাছে যেতে বলেন আবু সাঈদ। ওই চিকিৎসকের কাছে গেলে সুস্থ হবেন বলে আমাকে জানানো হয়। তার কথা মতো গত ১০ অক্টোবর রংপুর পাগলা পীরের হেল্থ কেয়ার সেন্টারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়নের কাছে যাই। রোগের কথা শুনে হাতে চিকিৎসা না দিয়ে আমার গলা ও ঘাড় মটকাতে শুরু করেন চিকিৎসক নয়ন।

এতে গলায় ও ঘাড়ে আঘাত পাই আমি। বাড়ি ফেরার পর গলায় ভীষণ ব্যথা শুরু হয় এবং গলায় গোটা ওঠে যায়। দুদিন পর গলা ফুলে যায়। পরে চিকিৎসক নয়নের কাছে গেলে বলেন আপনি গলার ডাক্তার দেখান, আমি এই চিকিৎসা করাতে পারব না। চিকিৎসক নয়নের ভুল চিকিৎসায় গলা ফুলে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছি আমি। নিরুপায় হয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেই। আমি ভুয়া চিকিৎসকের বিচার চাই। আমাকে সুস্থ করে দিন।

এ বিষয়ে বাউরা বাজারের চিকিৎসক আবু সাঈদ বলেন, আমার পরামর্শে ওই নারী নয়ন ডাক্তারের কাছে যান। তবে ভুল চিকিৎসা দেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।

রংপুরে পাগলা পীর এলাকার হেল্থ কেয়ারের চিকিৎসক হাবিবুর রহমান নয়ন বলেন, এটাই আমার চিকিৎসার পদ্ধতি। আমি তাকে ভুল চিকিৎসা দেইনি।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি যেহেতু জেলার বাইরের তাই লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে ওই নারীকে অভিযোগ দিতে বলেছি।

পাটগ্রাম থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মোহন্ত বলেন, ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।