হাকালুকি হাওরে দেখা মিলেছে মহাবিপন্ন পাখি বেয়ারের ভূঁতিহাঁস

৩০ জানুয়ারি ২০২০ এম কন্ঠ স্পেশাল, কৃষি, অর্থ ও বানিজ্য, পরিবেশ ও পর্যটন, মৌলভীবাজার, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

মাহফুজ শাকিল, হাকালুকি থেকে ফিরে :
এশিয়ার বৃহত্তম হাকালুকি হাওরে এবার দেখা মিলেছে পৃথিবী থেকে মহাবিপন্ন পাখি বেয়ারের ভূঁতিহাঁসের। হাকালুকি হাওরে আসা হুমকির সম্মুখীন অতিথি এ পাখিটির পুরো নাম বেয়ার্স পোচার্ড বা বেয়ারের ভূঁতিহাঁস। দুইদিন ব্যাপী হাকালুকি হাওরে পাখি শুমারিকালে ১টি বেয়ারের ভূঁতিহাঁস দেখতে পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের দুই দিনের জলচর পাখি শুমারি শেষে বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের খ্যাতিমান পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান। বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক জানান, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব ও আইইউসিএন বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে হাকালুকি হাওরে দু’দিন ব্যাপী পাখি শুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ৫৩ প্রজাতির ৪০ হাজার ১২৬ টি জলচর পাখির সন্ধান পাওয়া গেছে, ২০১৯ সালে ৫১ প্রজাতির ৩৭ হাজার ৯৩১টি জলচর পাখির দেখা মিললেও এ বছর তার থেকে ২ হাজার ১৯৫টি পাখি বেশী এসেছে।
বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক ও পল থম্পসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের ৬ সদস্যের একটি দল হাকালুকি হাওরে পাখি শুমারিতে অংশ নেয়। শুমারিতে অন্যান্যদের মধ্যে অংশগ্রহণ করেন বার্ড ক্লাবের সদস্য মোঃ শাহেদ ফেরদৌস, ওমর শাহাদাত, সফিকুর রহমান, তারেক অনু, সিবিএসিএ’র সাঈদ আল শাহিন ও সূচনা প্রকল্পের মো. শফি উল­াহ।
২৮ ও ২৯ জানুয়ারি সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে হাকালুকি হাওরের ৪০টি বিলে জলচর পাখিশুমারি করা হয়। একটি হাঁস দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের হয়ে থাকে। ভূঁতিহাঁসের রঙ চকচকে কালো, পেটের দিকটা সাদা। এটি পোকামাকড় খেয়ে জীবনধারণ করে। অন্য পাখির চেয়ে একটু ভিন্ন পাখিটি পানিতে ডুব দিয়ে উদ্ভিদের গায়ে কাদার সঙ্গে যুক্ত পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এরা মাটিতে ডিম পাড়ে। ডিম দেওয়া ও বাচ্চা ফুঁটাতে কিছু সময়ের জন্য তিব্বতের লাদাকা বা বিশ্বের উত্তরের সাইবেরিয়া, মঙ্গোলিয়া, চীন ও রাশিয়া অঞ্চলে যায়। বিশ্বের উত্তরের তুন্দ্রা অঞ্চল যেখানে ডিম পাড়বে সেই অঞ্চল এবং হাকালুকি হাওরে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন হলো এই ভূঁতিহাঁসের। গ্রীষ্মকালে তুন্দ্রা অঞ্চলে ও শীত মৌসুমে এই হাকালুকি হাওরে বিচরণ করে থাকে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা, পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক বলেন, বেয়ারের ভূঁতিহাঁস বিশ্বে মহাবিপন্ন পাখির একটি। দেশের কোথাও এই পাখির দেখা মেলেনি। একমাত্র হাকালুকিতে এই পাখির বিশেষত্ব। চার ধরনের ভূঁতিহাঁস রয়েছে। এরা হলো মরচে রং-ভূঁতিহাঁস, বেয়ারের ভূঁতিহাঁস, ফুলুরি হাঁস ও পাতি ভূঁতিহাঁস। এগুলোর মধ্যে বেয়ারের ভূঁতিহাঁস বিপন্ন প্রজাতির। পাখি শিকারিদের নিধনযজ্ঞে কারণে হাওরে প্রজননের সুযোগ না পাওয়ায় এ পাখির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। ভূঁতিহাঁসসহ অন্যান্য প্রজাতির পাখিকে রক্ষা করতে হলে বিষটোপে শিকার বন্ধ করতে হবে এবং তা সংরক্ষণ করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া হাকালুকির ফুট বিলে প্রথম বারের মত ৩টি মেটে রাজহাঁসের দেখা মেলে। এগুলো মূলত সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে বিচরণ করে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।