সবাই মজা করলেও পায়ের ব্যথায় আমি পারিনি: ইমন

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ খেলাধুলা বার পঠিত হয়েছে

ক্রীড়া ডেস্ক :: ভারতকে অহংকারকে ধূলিসাৎ করে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনূর্ধ্ব-১৯ যুব বিশ্বকাপ জয় করে ইতিহাস রচনা করেছেন বাংলার যুব টাইগাররা। সেটাও আবার দেশের ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো। বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের উদযাপনটা তাই ছিল বাধভাঙা। সেটা হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু এই বাধভাঙা উদযাপনের মাঝে একজন শুধু রয়েছিলেন দর্শক হয়ে। অথচ ম্যাচ জয়ের পেছনে অনন্য অবদান ছিল তার। কথা হচ্ছে পারভেজ হোসেন ইমন-কে নিয়ে।

অধিনায়ক আকবর আলী নিঃসন্দেহে দলকে দুর্দান্ত নেতৃত্ব দিয়েছেন। দায়িত্ব নিয়ে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন। তাই বলে ইমনের অবদানকেও খাটো করে দেখার কোনো উপায় নেই। ভাঙা হাতে প্লাস্টার নিয়ে তামিম ইকবাল খেলতে নেমে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন, তেমন আলোচনা হয়তো ইমনকে নিয়ে হচ্ছে না। কিন্তু ফাইনালে এর চেয়ে কম কিছুও করেননি বাঁহাতি ওপেনার। লক্ষ্য ছিল ১৭৭ রানের। ১০২ রান তুলতেই ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। অভিষেক দাস তখন সবেমাত্র আউট হয়েছেন, দলে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানের কোটা শেষ। একটা প্রান্ত ধরে আছেন কেবল অধিনায়ক আকবর আলী। তখনও বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান। লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে এই ৭৬ রান করা মোটেও সহজ হবেনা। তার উপর ভারতীয় বোলাররা রীতিমত চেপে ধরেছে বাংলাদেশকে। এমন সময়ে নিজের সব ব্যথা বেদনা ভুলে মাঠে নামেন রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠের বাইরে যাওয়া পারভেজ হোসেন ইমন।

হ্যামস্ট্রিংয়ে টান পড়ায় ২৫ রানে মাঠ ছেড়েছিলেন ইমন। দ্বিতীয়বার যখন নামেন, তখনও ব্যথা ছিল। তবে দলের প্রয়োজনে সে সব মাথায়ই আনলেন না তিনি। খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে রান নিলেন, বাজে বল পেলে সীমানা পার করতেও ভুল করেননি। সপ্তম উইকেটে আকবরের সঙ্গে মহাগুরুত্বপূর্ণ ৪১ রান যোগ করেন ইমন। হাফসেঞ্চুরি থেকে সামান্য দূরে থেকে (৪৭) আউট হোন তিনি। কিন্তু ততক্ষণে ম্যাচের ভীত করে দিয়েছেন ইমন। ইমন তার ইনিংস নিয়ে বলছিলেন, ‘যখন ১৫ রানে ছিলাম, তখনই পায়ে ব্যথা অনুভব করতে থাকি। ২৫ রানে পৌঁছানোর পর আর সহ্য করতে পারছিলাম না। তাই মাঠ ছেড়ে যাই। ভেবেছিলাম, যদি আধা ঘন্টা বিশ্রাম নিতে পারি, তবে হয়তো পরে ব্যাট করতে পারব। কিন্তু যখন একটার পর একটা উইকেট পড়তে শুরু করলো, বসে থাকতে পারলাম না। ব্যথা নিয়েই ব্যাটিংয়ে নেমে যাই।’ পায়ে ব্যথা নিয়েই আরও ২২ রান করেন ইমন। জাসওয়ালের বলে যখন আউট হয়ে ফিরছিলেন, তখনও খোঁড়াচ্ছিলেন। তার এই কষ্ট বৃথা যায়নি। বাংলাদেশ শিরোপা জিতেছে। ট্রফি নিয়ে রাতভর আনন্দ করেছে জুনিয়র টাইগাররা। কিন্তু ইমন সেটাও পারেননি। ড্রেসিরুমে বসে থেকেই সময় কাটিয়েছেন। ইমন বলেন, ‘সবাই মাঠে দৌড়ে গিয়েছিল। আমার তখনও ব্যথা। আমি ড্রেসিংরুমে বসে ছিলাম। সবাই রাতভর আনন্দ করেছে। আমি পায়ের এই ব্যথার কারণে তেমন কিছুই করতে পারিনি।’

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।