মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজে আজ নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম কর্মশালা ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী উদ্বোধন

৫ নভেম্বর ২০১৯ মুক্ত মতামত, মৌলভীবাজার, শিক্ষা-ক্যাম্পাস, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

স্টাফ রিপোটার: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিনামূল্যে স্যানেটারি প্যাড প্রদানের দাবিতে মৌলভীবাজারে গণস্বাক্ষর কর্মসুচিতে প্রতিবেদক ও আলোকচিত্রী নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম কর্মশালা ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচী উদ্বোধন হচ্ছে।
এ কথা অবগত যে,বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী মাসিক একটি নিষিদ্ধ বিষয় বলে পরিগণিত হয়। ভৌগলিক অবস্থান অনুযায়ী এদেশে ৯-১৩বছর বয়সের মধ্যে মেয়েরা ঋতুবতী হয়। কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয় বলে মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি না করার কারণে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের নারীরা মাসিকের স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা থেকে বঞ্চিত। ন্যাশনাল হাইজিন বেজলাইন সমীক্ষা অনুযায়ী,মাত্র ১০%স্কুলপড়ুয়া কিশোরী তাদের মাসিকের সময় স্যানিটারি প্যাড ব্যবহার করে। ৮৬% কিশোরী পুরানো কাপড়, ছেড়া ন্যাকড়া ব্যবহার করে। এর মধ্যে মাত্র ১১%মেয়ে সঠিক নিয়ম মেনে কাপড় ব্যবহার করে। বাকিরা ঘরের কোণায় কাপড় রাখে যা সম্পূর্ণভাবে জীবাণুমুক্ত করার আগেই পুনরায় ব্যবহার করে তারা। এমনকি বাংলাদেশের প্রাপ্তবয়স্ক নারী যারা গৃহে থাকেন,কর্মজীবি নন তাদের মধ্যে স্যানিটারি ব্যবহারের প্রবণতা মাত্র ১২%। দীর্ঘদিন অপরিস্কার কাপড় ব্যবহারের ফলে নারীদের জরায়ুমুখের ক্যান্সার,ইনফেকশন,যৌনাংগে ঘা,চুলকানি, অস্বাভাবিক সাদাস্রাব প্রভৃতি শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। দেশে প্রতি বছর ১৩০০০ নারী মারা যাচ্ছে জরায়ুমুখের ক্যান্সারের কারণে।কিন্তু আমাদের দেশের স্কুলগুলোতে এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে এই নিরাপদ মাসিকের বিষয় নারীদেরকে সচেতন করা হয় না। একজন নারী হিসেবে নিরাপদ মাসিক জীবন আমাদের অধিকার। সেই জায়গা থেকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব মাসিকের জন্য প্রয়োজনীয় স্যানেটারি প্যাড সব নারীর কাছে সহজলভ্য করা। ২০১৫ সালে মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড এর পরিপত্র বলে দিয়েছে যে, প্রতিটি স্কুলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাসিকের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি এবং মেয়েদের জন্য স্কুলেই স্যানেটারি প্যাড রাখা। কিন্তু দিনকে দিন স্যানেটারি প্যাডের দাম হু হু করে বেড়ে যাচ্ছে বলে শিক্ষার্থী এবং প্রান্তিক নারীরা কোনমতেই এই স্যানেটারি প্যাড কিনতে পারছে না।শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে পাঠ্য পুস্তক দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে! তাহলে বিনামূল্যে স্যানেটারি প্যাড দেওয়া হবে না কেন! কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ওষুধ আমরা ফ্রি পাই! তবে স্যানেটারি প্যাড নয় কেন! একটি নারীর জন্য স্যানেটারি প্যাড কোন বিলাসদ্রব্য নয়,ভাত মাছের মত অতি প্রয়োজনীয় দ্রব্য। তাই প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ও কমিউনিটি ক্লিনিকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিনামূল্যে স্যানেটারি প্যাড প্রদান করার দাবিতে আমরা সারা দেশব্যাপী গণস্মাক্ষর কর্মসুচি চালাচ্ছি। আমাদের মূল টার্গেট হচ্ছে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ হাসপাতাল, জমায়েত হওয়া স্থানে গিয়ে মাসিক সম্পর্কে কথা বলা। জেলায় জেলায় সাধারণ মানুষকে মাসিক বিষয়ক সচেতন করে তোলা। এই স্বাক্ষর কর্মসূচীর অধীনে আমরা বিভিন্ন স্থানে উঠান বৈঠক, ফোকাসড গ্রুপ ডিসকাস করব।সবশেষে সারা দেশব্যাপী গণস্মাক্ষর নিয়ে আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রাণালয়ের কাছে আমাদের দাবিগুলো পেশ করব। মৌলভীবাজার সরকারী মহিলা কলেজে আজ ৬নভেম্বর সকাল দশটা থেকে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফোরাম “গবহংঃৎঁধষ ঐুমরবহব অধিৎবহবংং চৎড়মৎধস রহ ইধহমষধফবংয” নামক কর্মশালার মাধ্যমে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচী উদ্বোধন করা হচ্ছে। উক্ত কর্মশালার সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচারের জন্য আপনার বহুল প্রচারিত গণমাধ্যম থেকে একজন প্রতিবেদক ও একজন আলোকচিত্রী প্রেরণ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।