মৌলভীবাজারে ১/১১’র আলোচিত দুই কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলায় ১৬আসামী বেকসুর খালাস

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার: মৌলভীবাজার ১/১১’র আলোচিত দুই কোটি টাকার চাঁদাবাজি মামলায় ১৬আসামীকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন মৌলভীবাজার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাহাউদ্দিন কাজী। ২০১৭ সালের ২৭এপ্রিল বিজ্ঞ অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ বাহাউদ্দিন কাজী নির্দেশনা পর ওয়ান ইলিভেনের নায়ক জেনারেল মইনের শ্যালক রেজা আহমদ বেনজির সহ ১৬জন আসামীর বিরুদ্ধে ২ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগে আসামীদের অভিযুক্ত করা হয়। রেজা আহমদ বেনজির সহ ১৬জন আসামীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা সেই আলোচিত মামলা দীর্ঘ দিন চলার পর রায়ের অপেক্ষায় ছিল। মামলাটি শুনানি হলে রায়ের দিনক্ষণের অপেক্ষা করছেন উভয়পক্ষ। গতকাল ৮ সেপ্টেম্বর রবিবার মামলাটি প্রমানিত না হওয়ায় অভিযুক্ত ১৬আসামীকে বেকসুর খালাস দেন আদালতের বিজ্ঞ বিচারক। মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়,জেনারেল মইনের শাসন কালে ২০০৭-২০০৮ সালে তার স্ত্রীর বড় ভাই রেজা আহমদ বেনজির মৌলভীবাজার শাহ মোস্তফা রোডের অনেকটা বেপরোয়া হয়ে উঠেন। ২০০৭ সালের ১৯ অক্টোবর রাত অনুমান ৩ ঘটিকার সময় বেনজির উলে­খিত মামলার আসামীদের নিয়ে শহরের বেরিরপারস্থ মামলার বাদী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান ও বড় ভাই সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর ও সিআইপি এম এ রহিমের নির্মাণাধীন এম.আর টাওয়ার-২ এর জায়গা দখল করেন। এ সময় তারা ১৭টি দোকানের সিমেন্ট, রড লুট করে নিয়ে যান। প্রায় ১বছর এই জায়গাটি দখলদারদের হাতে ছিল। তাৎক্ষণিক ভাবে বিষয়টি মৌলভীবাজার মডেল থানাকে জানালে প্রধান আসামী জেনারেল মইনের শ্যালক থাকায় ক্ষমতার দাপটে কোন মামলা নেয়নি পুলিশ। পরবর্তীতে ২০০৮ সালের ৩০ মে অনুমান রাত ৮টায় মামলার আসামীরা সবুজবাগ এম আর টাওয়ার-১ এর সামনের রাস্তা থেকে মামলার বাদী মুজিবুর রহমানকে অপহরণ করে বেনজীরের শাহ মোস্তফা রোডের বাসায় আটকিয়ে রাখে। কিছু সময় পর আসামীরা ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যতায় বাদীকে প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। হত্যার ভয়ে রফা দফার পর বাদী প্রাণ বাঁচাতে ২ কোটি চাঁদা দিতে রাজি হন। পরে রেজা আহমদ বেনজির নেতৃত্বে মুজিবুর রহমানকে সিলেট এইচ.এস.বি.সি ব্যাংক নিয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে ৫০ লক্ষ টাকা নগদ তুলে তাদের হাতে দেন। পরবর্তীতে মৌলভীবাজার এসে প্রাইম ব্যাংক মৌলভীবাজার শাখা থেকে পৃথক পৃথক চেকে বিভিন্ন জনের নামে আরও ১কোটি ৪৭ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ টাকা দেয়া হয়। সর্বমোট রেজা আহমদ বেনজিরকে ১কোটি ৯৭লাখ ৮১হাজার ২শত ৫০টাকা চাঁদা দেন।ওয়ান ইলিভেনের তত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালে নির্বাচনে গনতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আসলে সিআইপি রহিমের ভাই মুজিবুর রহমান বাদী হয়ে একই বিষয়ে মৌলভীবাজার মডেল থানায় ২০০৯ সালের ১৫অক্টোবর রেজা আহমদ বেনজিরকে প্রধান আসামী সহ মোট ১৬জনের বিরুদ্ধে আসামী করে ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৬৪/৩৮৬/৩৭৯/৩৮০/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ২৬০/২০০৯। মৌলভীবাজার মডেল থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহ্ হারুন-অর রশিদ ১৪/০২/২০১০ সালে এজহার ভুক্ত আসামীদের অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।বিজ্ঞ আদালতের বিচারক মোঃ বাহাউদ্দিন কাজী বিগত ২৭/০৪/১৭তারিখে ১নং আসামী বেনজির আহমদ রেজা,ফয়ছল আহমদ,জাহাঙ্গীর আহমদ,আব্দুর রউফ,আঃ বারী,ফরিদ আহমদ,সোহেল আহমদ,কাওছার আহমদ,আকলিমুন্নেছা, সৈয়দা হাসনা বেগম,ফয়জুন্নাহার,জামাল আহমদ,তুহিন আহমদ,তোফায়েল আহমদ,নুফিল আহমদ,সামছুননাহার ও রয়জুন্নাহারের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৩২৩/৩৬৫/৩৮৬/৩৭৯/৩৮০/৫০৬/৩৪ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।আসামী পক্ষের আইনজীবি তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা,বানোয়াট, ভিক্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে আদালতে দাবি করলে আদালত এটা না মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এপিপি মুজিবুর রহমান বাচ্চু। আসামী পক্ষের আইনজীবি ছিলেন এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান মুকুল এর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন,বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি দীর্ঘদিন স্বাক্ষী গ্রহন করে আমার মোয়াক্কেলদের বেকসুর খালাস প্রদান করে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ট্রিত করেছেন। আমরা ন্যায় বিচার পেয়েছি,বিজ্ঞ বিচারক সঠিক বিচার করেছেন। মামলার প্রধান আসামী রেজা আহমদ বেনজির বলেন আমরা আদালতের নিকট ন্যায় বিচার পেয়েছি। আমরা এ রায়ে সন্তোষ্ট। বাদী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানের বড় ভাই সাবেক ব্রিটিশ কাউন্সিলর ও সিআইপি এম এ রহিম শহিদ এর নিকট মামলার রায়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন,মামলার রায়ের কপি না পাওয়া পর্যন্ত কোন মন্তব্য করতে পারবো না। আমি শুনেছি আদালতের পেশকার রায় ঘোষনা করে বলছেন সব আসামী খালাস। মামলার রায়ের কপি পাওয়ার পর বুঝতে পারবো। আমি অন্যায়কারীদের সাথে আপোষ করি না। ১/১১’র সময় যারা অন্যায় করেছে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।