মৌলভীবাজারে ১০টাকার চালের জন্য দীর্ঘ লাইন: সরকারের নির্দেশমানা হচ্ছেনা

৭ এপ্রিল ২০২০ অপরাধ, কৃষি, অর্থ ও বানিজ্য, জাতীয়, মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

সাকের আহমদ/মিজানুর রহমান মিজান:করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের ঘোষিত সাধারণ ছুটির কারণে মানুষ কর্মহীন হয়ে এখন ঘরবন্দী। যার কারণে খেটে খাওয়া ও নিন্ম আয়ের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। সরেজমিনে আজ মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪টি স্থান ঘুরে দেখা যায়,করোনা ভাইরাসে কারণে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার কথা থাকলেও মানা হচ্ছে এসব নিয়মকানুন। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চাল ক্রয় করছেন ক্রেতারা। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের দুস্থ,অসহায় ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে (ওএসএমএস) চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার। প্রতিটি ডিলারের দোকানের সম্মুখে মানুষ গাদাগদি হয়ে চাল কেনার জন্য লাইনে দাড়িয়ে আছেন। বর্তমানে দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দুরত্ব রেখে লাইন বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ডিলার এবং প্রশাসনের দায়িত্বররা।

শহরের সৈয়ারপুর গ্রামের ৯০বছরের বৃদ্ধা ফুলেছা বিবি ভোরে শহরে ন্যায্য মূল্যের চালের দোকানের বিক্রয় কেন্দ্রে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন ৫কেজি চালের জন্য। ঠেলাধাক্কা খেয়ে দুপুর ১২টায় ৫কেজি চাল পান তিনি। চাল পেয়ে কিছুটা হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন এই বৃদ্ধা। শমশেরনগর রোর্ডের এভাবেই সকাল থেকেই রোদ উপেক্ষা করে শত শত অভাবী নারী পুরুষ চালের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন। কেউ ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থেকে চাল পান,কেউবা ফিরেন খালি হাতে।

সৈয়ারপুর নদীরপাড়ের বাসিন্দা শাহানা বেগম সাথে থাকা দুই সন্তান নিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,৩ঘন্টা লাইনে দাড়িয়ে অবশেষে চাল ৫কেজি পেয়ে ভাল লাগছে কিন্তুু গাদাগাদি করে চাল কিনতে সরকারের দুরত্ব বজায় রেখে চাল ক্রয় করছেন না । ফলে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আতংক নিয়েই বাড়ি ফিরছি।

ধড়কাপন গ্রামের এক বছরের সন্তান কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন চাল কেনার লাইনে রহিমা বেগম। তিনি বলেন,‘সকাল ৯টায় লাইনে দাঁড়াই। দুপুর ২টায় আমাকে ৫কেজি চাল দিছে।

দর্জিরমহল এলাকার বৃদ্ধা জুলেখা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,কষ্ট কইরা আইয়া চাউল পাইলাম না। ডিলার বেটায় কয় চাউল নাই।

ওএমএস ডিলাররা জানান, এখানে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে না। কারণ বজায় রাখাও সম্ভব নয়। শত শত মানুষের ভীড় এখানে। ডিলারা তাদের কাছে চাল বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে তারা জানান। আমরা দূরত্ব বজায় রেখেই চাল বিতরনের চেষ্টা করছি। কিন্তুু ক্রেতারা তা মানছেননা। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তারা আরো বলেন,একটি পরিবারের একজনই ভোটার আইডি কার্ড দিয়ে ৫কেজি চাল নিতে পারবেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ফটোকপি জমা নিয়ে চাল বিক্রি করা হচ্ছে।

এব্যাপারে সৈয়ারপুর এলাকার বাসিন্দা এডভোকেট পার্থ সারথী পাল বলেন, সরকার জনগনকে করোনাভাইরাসের হাত থেকে রক্ষার জন্য নির্দেশনা ইতিমধ্যে দিয়েছেন। কিন্তুু সচেতনতার অভাবে জনগন ঘর থেকে বের হয়ে দুরত্ব বজায় রাখছেননা। আজ সরকার শহরের শমশেরনগর সড়কে ওএসএস‘র ১০টাকা দামে কেজি প্রতি চাল বিতরন করেছে। কিন্তুু যেভাবে দুরত্ব বজায় রেখে চাল নেয়ার কথা সে অনুপাতে চাল ক্রয় না করে গাদাগাদি করে ক্রয় করছেন দেখে নিজেও আতংকিত হয়েছি। আমি মনে করি জনগনকে বর্তমান দুর্যোগপুর্ণ সময়ে নিজ নিজ উদ্যোগে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ করোনা ভাইরাসের মতো ভয়ংকর রোগ থেকে রক্ষা পাবনা। সবাই সচেতন নিরাপদ থাকার জন্য অনুরোধ জানাবো।
এব্যাপারে গোবিন্দ্র শ্রী এলাকার বাসিন্দা জহির আহমদ বলেন, সারা বিশ্বে করোনাভাইরানের মতো ভয়ংকর ছোয়াছে রোগে বাংলাদেশ ও ডেঞ্জার আকার ধারন করছে। কিন্তু দু:খের বিষয় মানুষজন দুরত্ব বজায় না রেখেই ঘর থেকে বের হচ্ছে। আজ ১০টাকা দওে চাল কিনতে দীর্ঘলাইন দেখে মনে হচ্ছে জনগনকে কোন অবস্থাতেই সামলানো যাচ্ছেনা। আমি অনুরোধ করবো জনগন যেন সরকারের দিক নির্দেশানা মেনে চলার জন্য।

এব্যাপারে ডাক্তার একে জিল্লুল হক প্রাপ্তন সহকারী অধ্যাপক (শিশু) সিলেট এম এ জে ওসমানী মেডিকেল কলেজ সিলেট  ,প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এখন পুরো বিশ্ব। নানাভাবে এ ভাইরাসটি শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অজান্তেই আক্রান্ত হচ্ছেন যে কেউ। শিক্ষিত ও সচেতন মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,আমার পরামর্শ হলো- জ্বর হলেই করোনার পরীক্ষা নয়। আগে অপেক্ষা করে উপসর্গ পর্যবেক্ষণ করুন। খারাপ হলে নিজেকে পরীক্ষা করিয়ে নিন। তাছাড়া সরকার দেশের জনগনের জন্য যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন তা অবশ্যই সবাইকে মেনে চলতে হবে। লক্ষনীয় বিষয় যে সরকার দেশে দর্যোগ সময়ে ্(ওএসএমএস) চাল ডিলাদের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। খাদ্য বিভাগ,প্রশাসন জনগনকে করোনাভাইরাসের হাত থেকে দুরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রাণপন চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তুু লক্ষনীয় যে জনগনের সচেতনার অভাবে দুরত্ব বজায় না রেখেই দীর্ঘ লাইনে চাল ক্রয় করছেন। হাট বাজারে জড়ো হয়েও চলাচল করছেন। আমি মনে করি করোনা ভাইরাসের মতো ভয়ানক রোগ থেকে রক্ষার জন্য সরকারের দিকনির্দেশা সবাইকে বিশেষভাবে রক্ষা করতে হবে। আমি আবারো বলবো মরনব্যধি করোনাভাইরাসের হাত থেকে নিজে বাচুন,অপরকে বাচাতে দুরত্ব বজায় রেখে সতর্ক থাকুন।

এব্যাপরে জেলা খাদ্য নিয়স্ত্রক বিপ্লব চন্দ্র দাস বলেন,আজ মঙ্গলাবার মৌলভীবাজার পৌরসভার ৪টি ওয়াডে ১০টাকা কেজি দরে ৫কেজি চাল বিক্রি কার্যক্রম শুরু করেছি। বাকি ৫টি ওয়ার্ডের পর্যাক্রমে বিক্রি করা হবে। প্রথম দিনেই যেভাবে সরকারের দেয়া নিয়ম অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখার নির্দেশনা থাকলেও সাধারন মানুষেরা চাল ক্রয় করতে এসে দুরত্ব বজায় না রেখেই চাল কিনছেন। খাদ্য বিভাগ,প্রশাসন শত চেষ্টা করে ও ক্রেতাদের নিয়ম কানুন মানতে বলা হলেও তা বুজানো যাচ্ছেনা। তারপর ও চেষ্টা চালানো হচ্ছে দুরত্ব বজায় রেখে ওএসএস এর চাল বিতরন করার। করোনাভাইরাসের হাত থেকে নিজে ও পরিবার এবং আশপাশের সবাইকে রক্ষার জন্য জনগন নিজেদের বিবেক,জ্ঞান দিয়ে সতর্ক থাকতে যা করনীয় সেগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। আমরাও আপ্রান চেষ্টা করছি সরকারের নির্দেশনা মেনে ওএসএস এর চাল বিতরন করার।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।