মৌলভীবাজারের কামারীরা ব্যস্তার মাঝে পাড় করছেন

৭ আগস্ট ২০১৯ শিক্ষা-ক্যাম্পাস, শিল্প ও সাহিত্য, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, সিলেট বার পঠিত হয়েছে
সাকের আহমদ

ঈদ এলেই ব্যস্ততা বাড়ে কামার পাড়ায় মৌলভীবাজারে ও কামারীরা ব্যবস্তার মাঝে পাড় করছেন দা, বটি, ছুরি শান দিতে আর নতুন করে বানাতে সবাই কম বেশি ছোটেন কামারদের কাছে। ঈদের আর ৪ দিন বাকি আছে । হাতুরির টুংটাং সবসময় লেগেই আছে তদের দোকানে।

মৌলভীবাজারে কামারপলল্লীতে প্রতিদিন তৈরি করছেন নতুন নতুন ছুরি, চাপাতি, দা, বটিসহ গরুর মাংস কাটা ও চামড়া ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত নানা সরঞ্জাম। নানান ব্যস্ততার মাঝেও সময় করে মানুষ ছুটছেন কামারপল­ীতে। কেউ যাচ্ছেন ছুরি, দা-বটি ধার করাতে, কেউবা যাচ্ছেন নতুন কিছু কিনতে।

তবে, বিগত বছর গুলোর চেয়ে এবারে সরঞ্জামের দাম বেশি হওয়ায় কিছুটা বিপাকে পড়েছেন কামারীরা। এদিকে দাম আগের তুলনায় বেশী হলেও বাধ্য হয়েই পশু কোরবানীর সরঞ্জাম কিনছেন ক্রেতারা। পশু কোরবানীর দা -ছুরি ও চাপাতি-সহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনতে মানুষ ভীড় করছেন কামারশালায়।পাশাপাশি কয়লা আর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমান কমেছে বলেও জানান কামাররা। বর্তমান আধুনিক যন্ত্রাংশের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে জমে উঠেছে এ শিল্প।

কামার সানু লাল বৈদ্য বলেন, সারাবছর চাকু, ছুরি, দা বটির ব্যবসা করি। কোনো রকমে চলে যায় আরকি। কিন্তু বছরের একবার এ ঈদের সময় প্রচুর বেচা কিনি হয় লাভ ভাল ও হয়। কয়েকদিন বাদেই কোরবানির ঈদ। প্রতিবছর ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসলেই কামারদের কদর বাড়ে। এসময় দা, বটি, ছুরি, চাপাতি তৈরির ধুম পড়ে। কাজের চাপে কারিগরেরা এখন নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

কারিগররা জানান, কাঁচা-পাকা লোহা দিয়ে তৈরি করা হয় ধাতব যন্ত্রপাতি। তবে পাকা লোহার দা-ছুরির চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে এবং বেশি দামে বিক্রি হয়ে থাকে। বিক্রেতারা জানান, দা আকৃতি ও লোহা ভেদে ১শ’ থেকে ৪শ’ ৫০ টাকা, ছুরি ৫০ থেকে ৩শ’ টাকা, চাকু প্রতিটি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা, হাড় কোপানোর চাপাতি প্রতিটি ২’শ থেকে ৪শ’ টাকা এবং ধার করার স্টিল প্রতিটি ৫০ টাকা করে বেঁচাকেনা হচ্ছে। পুরানো যন্ত্রপাতি শান দিতে বা “পানি” দিতে ১শ’৫০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হচ্ছে।

কয়লা ও কাঁচামালের দাম সহনীয় রেখে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে সরকার এমটাই প্রত্যাশা কামারদের।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।