বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগ শুরু

১ নভেম্বর ২০১৯ আন্তর্জাতিক, কৃষি, অর্থ ও বানিজ্য, জাতীয়, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ-ভারত নবম ফ্রেন্ডশিপ ডায়ালগ শুক্রবার বিকালে কক্সবাজারের ইনানীতে একটি তারকা হোটেলে শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সংলাপের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম।অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজেপি’র (ভারতীয় জনতা পার্টি) কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি রামমাধব বারানাসী, আসাম রাজ্যের অর্থমন্ত্রী হীমান্ত ভীষ্ম শর্মা, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিরিন শারমিন চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মহান নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আহবানে সাড়া দিয়ে ভারত আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষ ভারতের এই ত্যাগ ও সহযোগিতার কথা কোন দিন ভুলবে না।স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ফ্রেন্ডশিপ সংলাপ দুই দেশের মধ্যে সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করবে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার করবে। তিনি এই সংলাপের সাফল্য কামনা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতা বাড়াতে এই সংলাপ উপায় খোঁজে পাবে।তিনি বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত সমস্যা সমূহের উল্লেখযোগ্য সমাধান হয়েছে। অমীমাংসিত সমস্যাসমূহ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই সমাধান হবে।বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের সরকার সন্ত্রাসবাদ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নীতি বিশ্বব্যাপী প্রশংসা পেয়েছে। স্পিকার বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে সংসদীয় সহযোগিতা বাড়ানোর উপরও জোর দেন।বিজেপির কেন্দ্রিয় সেক্রেটারি জেনারেল রাম মাধম বারানাসী বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘গুড গভর্নেস’ তৈরিতে অন্যান্য নজির স্থাপন করেছেন। দুর্নীতি এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে তাঁর সরকার অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে। যা বিশ্বব্যাপি প্রশংসা পেয়েছে।তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক ভারত সফরের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করেছে। বাংলাদেশে ভারত বিনিয়োগ বৃদ্ধি করেছে ।তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে অসামান্য অগ্রগতি হচ্ছে। শিগগিরই বাংলাদেশ এই অঞ্চলের ‘গেইটওয়ে’ হতে যাচ্ছে। চীন, ভারত, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারও এই গেইটওয়ে ব্যাবহার করে সার্বিক সহযোগিতা লাভ করতে পারে।বিজেপির কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি বলেন, বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবিকতার অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এই সংকটে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে ভারত। কূটনৈতিক উপায়ে শিগগিরই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সভাপতির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বলেন, জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধে বাংলাদেশ ও ভারত অভিন্ন নীতিতে কাজ করছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই দেশ আগামীতে আরো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে কাজ করবে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ফ্রেন্ডসীপ সংলাপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।শনিবার দ্বিতীয় অধিবেশনে ‘কক্সবাজার ঘোষণা’র মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এই ডায়ালগ। বাংলাদেশ-ভারত দ্ইু প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে সম্পর্ক দৃঢ়করণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এ আলোচনার মূল লক্ষ্য। এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, জ্বালানী খাতসহ সম্ভাবনাময়ী আরো বিভিন্ন খাতের সার্বিক উন্নয়ন ডায়লগে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।