পানির ফিল্টারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে হোটেল শ্রমিকের মৃত্যু

১১ আগস্ট ২০১৯ মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারে কুলাউড়ায় পানির নষ্ট ইলেকট্রনিক ফিল্টারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাজু মিয়া (৪৫) নামে এক হোটেল শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১০ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পৌর শহরের উছলাপাড়া সিএনজি পাম্প সংলগ্ন এলাকায় একটি হোটেলে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত তাজু জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের মাগুরা এলাকার বাসিন্দা।

জানা যায়, তাজু মিয়া দীর্ঘ ১০ বছর ধরে পৌর শহরের উছলাপাড়া সিএনজি পাম্প সংলগ্ন ইছরাব আলীর হোটেলে শ্রমিকের কাজ করতেন এবং একই এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। শনিবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে হোটেলে কাজের সময় একটি ইলেকট্রনিক ফিল্টারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তাজু। পরে হোটেলে থাকা লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে জরুরী বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. জাকির হোসেন তাজুকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাগ্নে মো. মঈন উদ্দিন দাবি করেন, আমার মামা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর হোটেল মালিক দ্রুত ফিল্টারের সুইচ বন্ধ না করায় ও হাসপাতালে নিয়ে আসতে গাফিলতি করায় মামার মৃত্যু হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হোটেল শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, শহরের প্রতিটি হোটেলে পানির ইলেকট্রনিক ফিল্টারগুলো অনেক পুরানো। ফিল্টার সরবরাহকারী ও হোটেল মালিকরা এসব নষ্ট মেয়াদোত্তীর্ণ ইলেকট্রনিক ফিল্টার নিয়মিত সংস্কার এবং পরিবর্তন করেন না। আমরা যারা হোটেলে কাজ করি হোটেলে কাস্টমারকে পানি দিতে গেলে ইলেকট্রিক শকের আঘাতে প্রায়ই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হই। তাজুও নষ্ট ফিল্টারের বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেছে।

এ ব্যাপারে হোটেল মালিক ইছরাব আলী বলেন, দুইদিন আগে মৌলভীবাজারের মেসার্স মাহফুজ ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার কর্তৃপক্ষ এই ফিল্টারটি সরবরাহ করে। মেসার্স মাহফুজ ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার স্বত্বাধিকারী মাহমুদুর রহমান মোবাইলে বলেন, ফিল্টার ঠিক আছে। বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যা হতে পারে।

ফিল্টারের মেয়াদ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। কুলাউড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সঞ্জয় চক্রবর্তী বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।