চড়েন দামি গাড়িতে, রয়েছে ফ্ল‌্যাট ও কোটি টাকা!

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ অপরাধ, আইন-আদালত, জাতীয়, ঢাকা, বিশেষ প্রতিবেদন, শীর্ষ সংবাদ, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের (বিএসইসি) সামান্য কর্মচারী তিনি। নাম সিরাজুল ইসলাম। পদের নাম হেড অ্যাসিসটেন্ট। পদ ছোট হলেও তার প্রভাব অনেক বেশি। দপ্তরে তিনি কোটিপতি খান সাহেব হিসেবে পরিচিত।ব্যবহার করেন পরিচালকের নামে বরাদ্দকৃত সরকারি নিশান গাড়ি। তেল ও রক্ষণাবেক্ষণের অর্থ আসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে। তার অবশ‌্য আরো একটি পরিচয় আছে। তিনি বিএসইসি কর্মচারী ইউনিয়নের সদ্য সাবেক সভাপতি।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে মিলেছে এমন অনিয়মের প্রমাণ।সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ‌্য সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সামান্য চাকরি করেই রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বরে তিনি একটি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট ক্রয় করে বসবাস করছেন (বাসা নং-০৭, তৃতীয় তলা, রোড নং-১০, ব্লক-সি)।কোটি টাকার ফ্ল্যাট কেনার পাশাপাশি গ্রামের বাড়িতেও তৈরি করছেন আলিশান বাড়ি। এমনকি তার কয়েকটি ব্যাংক একাউন্টে জমা রয়েছে কয়েক কোটি টাকা।

প্রাধিকার বহির্ভূতভাবে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগে রোববার সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম অভিযানটি পরিচালনা করেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক সিবিএ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম নিশান গাড়িটি (ঢাকা মেট্রো খ-১২-০৭৫৭) ২০০৯ সাল থেকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে আসছেন। দুদক টিম পরিবহন পুলের এক কর্মকর্তার কক্ষে সরেজমিন অভিযানে গিয়ে উক্ত গাড়ির তিনটি আসল এবং তিনটি ডুপ্লিকেট করা লগ বই উদ্ধার করে। টিম উক্ত ছয়টি লগ বই এবং গাড়ির চাবি করপোরেশনের সচিবের নিকট জমা দেয়। আরো অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নথিপত্রের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করে দুদক টিম।

অভিযানকালে দুদক টিম পরিবহন পুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই জন কর্মকর্তাকে সচিবের অনুমোদন ব্যতিরেকে দপ্তরেও অনুপস্থিত পায়।এর আগে সিরাজুল ইসলামের বিষয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বেশ কিছু অনিয়মের অভিযোগ আসে দুদক-এ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিরাজুল ইসলাম ১৯৭৮ সালে টাইপিস্ট হিসেবে চাকুরি শুরু করেন। বর্তমানে বিএসইসি’র কমন সার্ভিসের হেড অ্যাসিসটেন্স পদে কর্মরত। সাধারণ মানের একজন কর্মচারী হয়েও দ্রুত কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান তিনি। বিএসইসিতে তার অনেক দাপট। অফিসের বড় কর্মকর্তাদের দামি দামি গাড়ি ব্যবহার করছেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি বিএসইসি কর্মচারী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে বিএসইসির টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কেনাকাটায় পার্সেন্টেজ, গাড়ি মেরামত ও জ্বালানি ক্রয়ের কমিশন ও নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে কমিশনের অনুমোদন নিয়ে শিগগিরই অনুসন্ধান শুরু করা হবে বলে দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।