গোপলা নদীর উন্মুক্ত জলাধার বন্ধ উন্মুক্ত করার দাবীতে মানববন্ধন ও পথসভা

১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

মশাহিদ আহমদ :: হাওর বাঁছাও, নদী বাছাঁও । মরছে নদী, ধুকছে দেশ, নিঃশেষ হচ্ছে পরিবেশ। বিভিন্ন শ্লোগানে শ্লোগানে মৎস্য ভান্ডার বলে খ্যাত হাইল হাওর “গোপলা নদীসহ বন্ধ জলাশয় উন্মুক্ত করার দাবীতে দাবীতে গোপলা নদীরপাড়ে মানববন্ধন ও পথসভা করেছে স্থানীয় মীর্জাপুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবিরা। ৩নং ওয়ার্ড় আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ এখলাছ মিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত মানববন্ধন ও পথসভায় মীর্জাপুর ইউনিয়ন মৎস্যজীবিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন- কিতাব আলী, ফিরুজ মিয়া, মিনার মিয়া, লায়েক মিয়া, কনর মিয়া, হারুন আলী, করিম মিয়া, আফাছ মিয়া, আসক মিয়া, গুলজার মিয়া, রিয়াজ মিয়া ও সিপার উদ্দিন প্রমুখ। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম এর নির্দেশে মানববন্ধন ও পথসভা চলাকালীন সময়ে মৎস্য অফিসার শহিদুল ইসলাম সিদ্দিকী সরেজমিন পরিদর্শন করেন এবং যতাযত আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের আশ্বাষ প্রদান করেন। বক্তারা বলেন- প্রভাবশালীরা মাছ শিকারের জন্য অবৈধ ভাবে বাঁশের কাঠি (পাটি বান), ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার কারনে বৌলারদারা থেকে বড়ছড়া, চেংড়া বিলসহ আশ-পাশের খাল-বিল, নদী-নালা গুলো এখন একেবারেই ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে। প¬াবন ভ‚মি বাঁধ দিয়ে অবৈধ কারেন্টজাল ব্যবহার, ডিমওয়ালা মা-মাছ নিধন, চাষযোগ্য কৃষিজমি ও পাহাড়ি এলাকায় লেবু, আনারস বাগানে কীটনাশক ব্যবহার, সর্বোপরি হাওরের নাব্যতা হ্রাস ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই দখল হয়ে গেছে বিশাল এই হাওরের অনেক ভূমি। সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি ছাড়াও গোপলা নদীসহ এই হাওর অঞ্চল অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। হাওর জুড়ে দীর্ঘ দিন থেকে পানিতে তলিয়ে থাকা কৃষিজমিতে কচুরিপানার একক রাজত্ব। এর আগেও নদী-নালা, খাল, বিল রক্ষার জন্য স্থানীয়রা বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মানববন্ধনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেও কোন কাজ হচ্ছে না। প্রভাবশালী নাসির উদ্দিন, মব্বত উল¬্যাহ. দুলা মিয়া, শফিক মিয়া, জুয়েল মিয়া ছাইফুল মিয়াগংরা দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট এর মাধ্যমে নদীর উন্মুক্ত জলাধার বন্ধ করে অবৈধ কারেন্ট জাল ব্যাবহার করে বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেট দিয়ে প্রকাশ্য মৎস্য নিধন করে আসছেন। স্থানীয় প্রশাসন একাধিকবার তাদের অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দিয়ে ছিল। কিন্তু, আবারও একই কায়দায় মাছ নিধন ছলেছে। হাইল হাওরের মৎস্য ও জলাভূমি সংকটাপন্ন হয়ে পড়ায় পরিবেশ ও প্রতিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন- অবৈধ ভাবে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরার কারনে এর আগেও কিছু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় প্রভাবশালীরা আমাদের উপর হামলা চালিয়েছিল। অবৈধ দখলদার ৪জনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবাবরও অবৈধ ভাবে কারেন্টে জাল ব্যাবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান করা হবে।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।