করোভাইরাস : শহর জুড়ে শুনশান নিরবতা

২৬ মার্চ ২০২০ মৌলভীবাজার, সিলেট বার পঠিত হয়েছে

তানভীর আঞ্জুম আরিফ : যদিও সরকারীভাবে মৌলভীবাজারে এখনো ‘লক ডাউনের’ কোন সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।

তবে সাধারন মানুষ স্বেচ্ছায় যাচ্ছেন লক ডাউনে। বাসাবাড়ি থেকে মানুষ তেমন বের হতে দেখা যাচ্ছে না। আতংকিত সবাই । বাসায় বসে বনে ফেসবুক,ইউটিউবিং আর অনলাইন পোর্টাল গুলোর উপর ভরসা তাদের ।এতে করেই পার করছেন সময় ।

বাসাবাড়ীতে বসে এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন ব্যস্থ এই শহরের লোকজন । তবুও তাড়া খুশি । বাসায় বসলে অন্তত মরণক্ষাত ভাইরাস করোনার হাত থেকে’ত অন্তত রক্ষা পাওয়া । যাবে। সাথে সাথে বাসায় বসেই চলছে করোনাভাইরাসের হাত থকে রক্ষার পাওয়ার সকজল রকম প্রস্তুতি ।

অনেকেই আবার নিজের ব্যবহত ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করছেন ‘রাগ করলে করুন ,অন্তত আগামী ১০ দিন আমার বাড়ীতে কেউ আসবেন না । আমিও আপনাদের বাড়ীতে যাব না ।

অর্থাৎ ভিন্ন ধর্মী এক প্রচারণা । অনেকে আবার বাসায় বসে বসে ফেসবুকে ভিডিও কলিংয়ের মাধ্যমে পরিবারের ভিন্ন স্থানে থাকা সবার সাথে যোগাযোগ রাখছেন । কথা বলছেন দূর-দূড়ান্তে থাকা বন্ধুদের সাথেও । বন্ধু , বান্ধব সহ অন্যান্যদের করোনাভাইরাস যাতে ছড়াতে না পারে সচেতনতা হিসেবে এটি করছেন বলে জানিয়েছেন তারা।তারা খুশি মনেই বাসায় সময় কাটাচ্ছেন।

গত ৩/৪ দিন যাবৎ কর্মব্যস্ত মৌলভীবাজারের চেহারা অনেকটাই পাল্টে গেছে । গত সোমবার মৌলভীবাজারে করোনা সন্দেহে এক নারীর মৃত্যুর পর ছড়িয়ে পড়ে আতংক।

এরপর ওই দিন রাতেই মৌলভীবাজারের বড় বড় মার্কেট বন্ধ রাখার ঘোষণ দেন ব্যবসায়ীরা। এতে আতংক আরেকধাপ বাড়ে মানুষের মাঝে।

২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ১০দিনের ছুটি ঘোষণা করলেও গতকাল মঙ্গলবার থেকে মৌলভীবাজারে এর প্রভাব পড়েছে।

শহর ও শহরতলীর ৯০ ভাগ মার্কেট ও দোকান-পাট বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। আজ ও শহরের বিভিন্ন কুসুমবাগ,চৌমুহনা চত্বর, কোর্টরোড,শ্রীমঙ্গল সড়ক সহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে ।

করোনা আতঙ্ক কেড়ে নিয়েছে ব্যস্ততম শহরের ব্যাস্থতম রোড় সেন্ট্রাল রোডের সেই নিত্যদিনের সেই চিরচেনা যানজটও আজ আর চুখে পড়েনি ।

চুখে পড়েনি চৌমুহনা চত্বরে রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাফিক পুলিশদের ।প্রয়োজন পড়ছে না গাড়িগুলোকে আর সঠিক পথে চলার নির্দেশনারও দেওয়ার ও ।

শহর ও শহরতলীর কেউ খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না । গতকাল সরকারী ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পূর্ণরায় বন্ধ ঘোষনা আসে । বেসরকারি বিভিন্ন অফিস বন্ধ হওয়ার ধরুন অহেতুক রাস্তায় বের হচ্ছে না কেউই।

সবমিলিয়ে রাস্থাঘাটে সুনশান নিরবতা । থমথমে চারপাশ । সব সময়ের ব্যস্ত থাকা শহর এখন খাঁখাঁ করছে।

জনশূন্য, নিস্তব্ধ। খুব প্রয়োজনীয় জিনিপত্র ছাড়া বন্ধ সবকিছুর দোকান। নেই কোনো যানবাহনও। সব মিলিয়ে এ যেন এক যুদ্ধাবস্থা। থমথমে চারপাশ।

এ সময় এবং অবস্থার পরিত্রান পেতে হলে বাইরে নয়, ঘরে অবস্থান করাই অতি জরুরি। যারা আজ ঘরে, তারাই এ যুদ্ধের বীর। যে যার যার ঘরে অবস্থান নিয়েই নিশ্চিত করতে হবে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা। আর তাতেই পরাজিত হবে কোভিড-১৯ ভাইরাস।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) স্বাধীনতা দিবস হলেও, দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোথাও তেমন জনসমাগম চোখে পড়েনি। কেউ বেরোচ্ছে না ঘর থেকে।তবে মাঠে আছেন জেলার বিভিন্ন টেলিভিশন ,পত্রিকা ও অনলাইনে কর্মরত সংবাদ কর্মীরা ।

গতকাল সচিবালয়ে ছুটির সময়ে সেনাবাহিনী নামার মধ্যে সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে আলাদা কোনও পাস বা পরিচয়পত্র ইস্যু করা হবে কিনা- জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনি করি সাংবাদিকদের যে কার্ড আছে সেটি যথেষ্ট। যদি সাংবাদিকদের মিডিয়া হাউজ থেকে বলে দেওয়া হয় তিনি অন-ডিউটি তাহলে সেটিই যথেষ্ট। এর জন্য আলাদা কার্ড দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি না। একজন সাংবাদিক যখন অন-ডিউটি তখন তাকে সহযোগিতা করা প্রয়োজন বলে মনে করি।

তিনি আরো বলেন, এই দুর্যোগ সম্মিলিতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয় সেজন্য তারাও কিন্তু করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। আমরা বলেছিলাম সাংবাদিকদের পার্সোনাল প্রটেকশনের জন্য আমরা কিছু পিপিই দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। এই কড়াকড়ির আওতামুক্ত আছে কেবলমাত্র জরুরি সেবাগুলো।

আর বিশেষ কাজে বের হওয়া গুটিকয় গাড়িগুলোর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে পুলিশ।

সাধারণ মানুষের ঘরে থাকা নিশ্চিত করতে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে শহরে টহল দিচ্ছেন তারা।

এছাড়া করোনা প্রতিরোধে বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করেও মানুষজনকে ঘরে অবস্থানের কথা প্রচার করা হচ্ছে। আর পৌরসভার ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে হচ্ছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে ।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।