এরশাদের ক্ষমতা দখলে খুশি হয়েছিলেন শেখ হাসিনা:বিএনপি মহাসচিব

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজনীতি, সংবাদ শিরোনাম, সারাদেশ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ বার পঠিত হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক: জাতীয় পার্টির প্রয়াত চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুশি হয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বৈরশাসক এরশাদ অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনিই তখন বলেছিলেন ‘আই এম নট আনহ্যাপী।’

সোমবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন।

গতকাল জাতীয় সংসদে এরশাদসহ সদ্য প্রয়াত বিশিষ্টজনদের ওপর শোক প্রস্তাবের সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জিয়া যেভাবে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন, এরশাদও একইভাবে ক্ষমতা দখল করেন। হাইকোর্ট তাদের এই ক্ষমতা দখলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন। এরপর তাদেরকে আর সাবেক রাষ্ট্রপতি বলা যায় না।’

তবে ব্যক্তি এরশাদের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ হিসেবে জেনারেল এরশাদ সাহেব অমায়িক ছিলেন, মানুষের প্রতি তার দরদ ছিল।’

সংসদে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ভাষণের সমালোচনা করেন মির্জা ফখরুল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে প্রায়ই ‘অসত্য কথা’ বলেন এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, রবিবার জাতীয় সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নিয়ে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্য নয়। তার কথার কোনো ভিত্তি নেই। ইতিহাসও তার সাক্ষ্য দেয় না।

এরশাদকে ‘বৈধ রাষ্ট্রপতি’ বলা যায় না এবং এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণের পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘সুবিধা’ নিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংসদে তিনি (প্রধানমন্ত্রী) প্রায়ই অসত্য কথা বলেন। যে কথার কোনো ভিত্তি নেই।

‘সত্য হচ্ছে এটাই যে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ একজন নির্বাচিত বিচারপতিকে সরিয়ে ক্ষমতা দখল করেছিলেন তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্তে বলেছিলেন- ‘শি ইজ নট আনহ্যাপি’- অর্থ্যাৎ এরশাদ ক্ষমতায় আসায় তিনি অখুশি নন। পরে তার (শেখ হাসিনা) কাজ দেখে আমরা বুঝতে পারি তিনি এরশাদকে সঙ্গে নিয়েই এদেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছেন, মানুষের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন।

জাতীয় পার্টিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক জোট গড়ার উদাহরণ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বরাবরই তিনি (শেখ হাসিনা) এরশাদের দলকে সঙ্গে নিয়ে জোট করেছেন। তাকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনকে হত্যা করে বিরোধী দলে বসিয়েছেন। যে কারণে আমরা বলি, এরশাদ হচ্ছেন সম্পূর্ণ আওয়ামী লীগের, শেখ হাসিনার গৃহপালিত বিরোধী দল।’

কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই বেগম জিয়াকে জেলখানা থেকে মুক্ত করা হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারকে গণবিরোধী ও জবরদখলকারী উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই সরকারকে বিদায় না করা পর্যন্ত এদেশের গণতন্ত্র মুক্ত হবে না, দেশের মানুষেরও মুক্ত মিলবে না।

এর আগে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ এবং মোনাজাত করেন ফখরুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি নূর জাহান ইয়াসমিন, সহ-সভাপতি জেবা খান, ‍যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহ-সভাপতি মেহেরুন্নেসা হক, সাধারণ সম্পাদক আমেনা খাতুন প্রমুখ।

 

অনলাইন ডেস্ক: ০৯-০৯-১৯/মুমিন

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।