ইরাকের গুলি বিক্ষোভে , নিহত অন্তত ১৩

৫ নভেম্বর ২০১৯ আন্তর্জাতিক বার পঠিত হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: গত ২৪ ঘন্টায় ইরাকের বিক্ষোভকারীদের ওপর দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। রয়টার্স বলছে, সরকারকে নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর বিরুদ্ধে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ দমনের জন্য ইরাক সরকার প্রথমে সরাসরি গুলি করার যে পন্থা অবলম্বন করেছিল তারা আবার সেটি শুরু করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গতকাল সোমবার দিনব্যাপী সরকারি বাহিনীর গুলিতে আটজন নিহত হয়। এরপর মঙ্গলবার রাতে আরও অন্তত পাঁচ বিক্ষোভকারী নিরাপত্তা বাহিনী গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন। তার মধ্যে একজন কিছুক্ষণ আগে গুলিতে নিহত বিক্ষোভকারীর শেষকৃত্যে অংশ নিতে গিয়ে প্রকাশ্যেই গুলিতে প্রাণ হারান।
গত অক্টোবরে ইরাকে দেশটিতে সরকারি বিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। মূলত দেশটির প্রশাসনে ব্যাপক দুর্নীতি, বেকারত্ব, জীবন-যাপনের ব্যয়বৃদ্ধিসহ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে অন্য দেশের সরকারের ওপর নির্ভরশীলতার প্রতিবাদে ইরাকের রাস্তায় নামেন হাজারো বিক্ষোভকারী। এতে এখন পর্যন্ত ২৬০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন।
বিক্ষোভ শুরুর প্রথম সপ্তাহেই সবচেয়ে মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। রাজধানী বাগদাদে বড় বড় ভবনগুলোর ছাদ থেকে স্নাইপারের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের গুলি করা হয়। তবে অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর পর সরকার বিক্ষোভে গুলির সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে আসার পর এখন আবার সরাসরি বিক্ষোভে গুলি করা শুরু করেছে।
গত দশদিনে ইরাকের এই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর নতুন করে এই সহিংসতা শুরু হয়েছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদিল আব্দুল মান্দির এক ঘোষণার পর। তিনি বিক্ষোভকারীদের আন্দোলন বাতিল করার আহ্বান জানান। কিন্তু তাতে সাড়া না পাওয়ায় ফের সরাসরি গুলির নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী তখন বলেছিলেন, তিনি পদত্যাগ করতে রাজি আছেন যদি রাজনৈতিক দলগুলো তার পরিবর্তে নতুন কাউকে প্রধানমন্ত্রী করার ব্যাপারে সম্মত হয়। ব্যাপক সংস্কারেরও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা বলছেন,এটাই যথেষ্ট নয়, সমস্ত রাজনৈতিক শ্রেণির বিদায় নেয়ার সময় এসেছে। বিক্ষোভে তরুণরাই সংখ্যাধিক।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।