আপনি অসুখী হয়েও কেন বিচ্ছেদে যান না ?

১১ ফেব্রুয়ারি ২০২০ লাইফ স্টাইল বার পঠিত হয়েছে

লাইফস্টাইল ডেস্ক : প্রেমের মুহূর্তগুলোতে সারা দুনিয়াটা রঙিন দেখায়। একইভাবে একটা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার সময়ও একরাশ তিক্ততা তৈরি হয়। অনেকসময় দু’পক্ষেরই প্রবল চেষ্টা সত্ত্বেও সম্পর্ক আর সরলরেখায় হাঁটে না। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, দৈনন্দিন ঝগড়াঝাঁটি, তিক্ততা, অপমান মেনে নিয়েও বহু মহিলা স্বামীর সঙ্গেই সারাজীবন থেকে যান। যেখানে সম্পর্কের সুতোটা ছিঁড়ে গেছে বরাবরের মতো, জোড়া লাগার কোনও সম্ভাবনাও নেই, তেমন পরিস্থিতিতে নৈমিত্তিক তিক্ততা সত্ত্বেও কেন তাঁরা বিচ্ছেদের পথে হাঁটেন না?
অজানার ভয়
দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একটা পারস্পরিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি হয়ে যায়। সম্পর্কে প্রেম না থাকলেও এই স্বাচ্ছন্দ্যবোধটা কিন্তু থেকেই যায়। কালকের দিনটা কেমন হতে পারে তার একটা আগাম ধারণাও থাকে। স্বচ্ছন্দ ও পরিচিতির এই বৃত্তের বাইরে পা দিতে সাহস করেন না অনেক মেয়েই।
সমাধান: একটা অসুখী সম্পর্ক দিনের পর দিন জিইয়ে রাখার চেয়ে একা থাকা অনেক শান্তির। এ কথাটাই নিজেকে বোঝাতে হবে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হয়তো কিছুদিন সময় লাগবে, কিন্তু একটা বিষাক্ত পরিবেশে থাকার চেয়ে তা অনেক গুণে ভালো। বেরিয়ে আসুন, দরকারে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বা আত্মীয়দের সাহায্য নিন।
আত্মবিশ্বাসের অভাব
নিজের উপর নিজেরই যদি আস্থা না থাকে, তা হলে অন্য কেউ আপনার উপর আস্থা রাখবে কেন? অধিকাংশ মহিলাই ভাবেন স্বামী তাঁদের সঙ্গে থেকে বিরাট কৃতার্থ করে দিয়েছেন।
সমাধান: স্থায়ী বিচ্ছেদের পথে প্রথমেই না হেঁটে কিছুদিন পরস্পরের থেকে আলাদা থাকুন। বন্ধুর বাড়িতে গিয়ে থাকুন, নিজের কথা ভাবুন। একা থাকতে পারবেন কিনা, সুবিধে-অসুবিধেগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবেন কিনা ভাবুন। সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে।
বিচ্ছেদের যন্ত্রণা
স্বামীর সঙ্গে মনের মিলমিশ না থাকলেও তাঁর প্রতি ভালোবাসাটা অনেক মেয়েরই থেকে যায়। স্থায়ী বিচ্ছেদের কষ্টটা তাঁরা তাই এড়িয়েই যেতে চান।
সমাধান: সম্পর্কটা শুধরে নেওয়া সম্ভব কিনা, তার একটা শেষ চেষ্টা করে দেখুন। যদি সম্ভব না হয়, তা হলে বিচ্ছেদের পথে হাঁটাই সম্মানের। বিচ্ছেদের কষ্ট একসময় ফিকে হয়ে আসবে কিন্তু সারাজীবন একসঙ্গে থাকার যে কষ্ট তা কিন্তু এড়ানোর কোনও পথ নেই।
খরচের ভয়, সন্তান এবং অন্যান্য
বহু ক্ষেত্রেই, বিশেষ করে যে সব মেয়ে চাকরি করেন না, তাঁরা নিজেদের খরচ কীভাবে চালাবেন, সেই ভয়ে ভালোবাসাহীন সম্পর্কে থেকে যান। অনেক সময় সন্তানের মুখ চেয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হন। এ ছাড়া সামাজিক চাপও কাজ করে।
সমাধান: বিবাহিত সম্পর্ক যতটা সম্ভব সহনীয় করে তুলতে এ সব ক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের সাহায্য নেওয়াই ভালো।

শর্টলিংকঃ
সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের।